খুলনায় সরকারি উদ্যোগে হতে যাচ্ছে মাদকাসক্ত নিরাময় হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

শহরতলীর অদূরে কৈয়া বাজারের সন্নিকটে সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ হবে মাদকাসক্ত নিরাময় হাসপাতাল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এ উদ্যোগ নিয়েছে। বটিয়াঘাটার রাজবাঁধ মৌজায় সরকারি ১০ একর জমির ওপর শীঘ্রই গড়ে উঠবে এ হাসপাতাল।

২০২০ সালের পর থেকে মিয়ানমার ও ভারত থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও কোডিন ফসফেট নামক নেশা জাতীয় দ্রব্য আসছে। সড়ক পথ ছাড়াও নৌ পথে মাদকের চালান আসছে। ১৪ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারী-পুরুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে সংসারে অশান্তি, অতিরিক্ত খরচ ও খুনোখুনির মতো ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর মাদক সম্রাটদের পরিবর্তন হয়েছে। নতুন নতুন আশ্রয়দাতা হয়েছে। বিশেষ করে পাড়া-মহল্লায় শাসক গোষ্ঠীর এক শ্রেণির সমর্থক সম্রাট হিসেবে নতুন করে কারবার শুরু করেছে। মাদক সহজলভ্য এবং দাম কম হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত নারী-পুরুষ এদিকে বিশেষ করে ঝুঁকে পড়েছে। মাদকসেবীরাও অস্বাভাবিক আচরণ, হার্ট, লিভার ও কিডনি রোগে ভুগছে। এ অবস্থার অবসানে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ৮টি বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্ত নিরাময় হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি হাসপাতাল হবে ২শ’ শয্যার। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজবাঁধ মৌজায় হাসপাতাল নির্মাণের স্থানটি চূড়ান্ত করেছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদমর্যাদার একজনকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান এসকে ইফতেখার মোহাম্মাদ উমায়ের বলেন, এখানে কম খরচে চিকিৎসা হবে। চিকিৎসা পদ্ধতি আধুনিক। ২৮ দিনে মাদকাসক্ত নারী-পুরুষ সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরতে পারবে। শীঘ্রই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে খুলনার গল্লামারীতে বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নামে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সোনাডাঙ্গা বাইপাসের এম এ বাড়ি সড়কের ২৬ নম্বর হোল্ডিং এর আইডিয়াল নার্সিংহোম ভবনের তৃতীয় ও পঞ্চম তালায় এ কেন্দ্র অবস্থিত। প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে মোটা অঙ্কের ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের ৪১ জন জনবল কাঠামোর মধ্যে ১৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন না করেই তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।

বিষয়টি স্বীকার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রের কাউন্সিলর সৈকত মন্ডল জানান, আড়াই বছর যাবৎ এখানে কোনো চিকিৎসক নেই। ২৫ শয্যার হাসপাতাল নামমাত্র। আবাসিক চিকিৎসা সুবিধা নেই। এখানে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না, শুধুমাত্র আউটডোর কাউন্সিলিং করা হয়। তিনি বলেন, এখানে তার আড়াই বছর কর্মজীবনে কোনো রোগী ভর্তি হতে দেখেননি।

অপর একটি সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে মুক্তি সেবা নিরাময় কেন্দ্র, প্রগতি মানসিক রোগ ও মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, অশ্রু নিরাময় কেন্দ্র, সানমুন মাদকাসক্ত, মুনড্রপসহ ৯টি সরকারি সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্র প্রতি মাসে গড়ে ৫০ জন মাদকাসক্ত ভর্তি হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতিবছর প্রায় ৭ হাজার মাদকাসক্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রত্যেক রোগীর জন্য অভিভাবকদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা গুণতে হয়।

প্রগতি মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিচ্ছে। এরা ঘুমের ওষুধ, মদ, ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত ছিল।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন